ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

ফেসবুককে আপনার ব্যবসার কাজে যেভাবে ব্যবহার করবেন

18 Digital Marketing Tips Most People Don’t Know About - Muntasir Mahdi - Digital Marketer in Bangladesh


আপনি যদি ছোটখাট একজন উদ্যোক্তা হয়ে থাকেন, যিনি ফেসবুকের মাধ্যমে বেশ কিছু নতুন ক্রেতা তৈরি করতে চাচ্ছেন কিংবা আপনি যদি একজন উদ্যোক্তা ও মার্কেটার হয়ে থাকেন যিনি ফেসবুককে শুধুমাত্র মার্কেটিংয়ের কাজে ব্যবহার করতে চান, তাহলেও ফেসবুক আপনার বেশ কাজে আসতে পারে।

ফেসবুকের বিভিন্ন টুলস, পলিসি, অ্যাডভার্টাইজমেন্ট টেকনিক, অ্যালগরিদম, মার্কেটিং টিপস এবং উদ্যোক্তাদের জন্য রিসোর্সগুলো আপনাকে বেশ সাহায্য করবে, আপনার মার্কেটিং কিংবা ব্যবসার বৃদ্ধির জন্য। আজকে আমরা মূলত এই বিষয়টা নিয়েই আলোচনা করবো।

 

ফেসবুক প্রোফাইল, পেইজ আর গ্রুপের মধ্যে পার্থক্যটা বুঝুন

অনেকেই আছেন যারা এখন পর্যন্ত ফেসবুকের প্রোফাইল, পেইজ আর গ্রুপের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে জানেন না। ফেসবুকের প্রোফাইল কিন্তু কোনো ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত হয় না, শুধুমাত্র পার্সোনাল কাজেই এটা ব্যবহৃত হয়। আপনার প্রোফাইল যদি ব্যবসা সম্পর্কিত হয়ে থাকে এবং সেখানে যদি আপনি অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যবসা ও এ সম্পর্কে পোস্ট দিয়ে থাকেন, তাহলে সেটা ফেসবুক যেকোনো সময়ে ডিলিট করে দিতে পারে কারণ এটা তাদের টার্ম এন্ড পলিসির বাইরে পড়ে।
 

ফেসবুক যখন শুরু হয়েছিলো, তখন মানুষ শুধুমাত্র ফেসবুক প্রোফাইল খুলেছে।তারপর যখন ধীরে ধীরে মানুষ বাড়তে শুরু করলো তখন থেকে ফেসবুক একটা মার্কেটিং টুল হিসেবেও ব্যবহার হতে শুরু করেছে। তারপর ফেসবুক ব্যবসায়ের কাজে সাহায্যের জন্য আর সেটাকে প্রমোশনের জন্য পেইজ খোলার পদ্ধতি শুরু করলো। ফেসবুক প্রোফাইলে ৫০০০ এর বেশি ফ্রেন্ড যুক্ত করা যায় না বলে ফেসবুক পেইজ এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু কোন ধরনের ফেসবুক পেইজ খুলবেন সেটা নিচের থেকে ঠিক করে নিন,

  • ফ্যান পেইজঃ আপনার নিজস্ব প্রোফাইল কিংবা পার্সোনাল অনলাইন শপ হলে সেটাকে প্রমোটের জন্য ফেসবুক ফ্যান পেইজ করতে পারেন।
  • গ্রুপ পেইজঃ আপনার যদি কোনো কমিউনিটি থাকে তাহলে সেই কমিউনিটিতে একসাথে কাজ করার জন্য গ্রুপের সাথে যুক্ত একটি পেইজ করতে পারেন।

 

কীভাবে আপনার ব্যবসার জন্য একটি ফেসবুক পেইজ খুলবেন?

প্রথমে আপনাকে যেকোনো একটি ফেসবুক প্রোফাইলে লগ ইন করতে হবে। তারপর ‘টপ মেন্যু’ থেকে ‘ক্রিয়েট’য়ে ক্লিক করে ‘পেইজ’য়ে ক্লিক করতে হবে। যদি আপনি সেলিব্রেটি বা পাবলিক ফিগার না হয়ে থাকেন তাহলে এখন ‘বিজনেস/ব্র্যান্ড’ইয়ে ক্লিক করুন। তারপরে ফেসবুকের দেখানো স্টেপগুলো ফলো করুন, যেখানে আপনাকে আপনার বিজনেসের নাম, লোগো, কাভারের ছবি, ব্যানারের ছবি এবং ডেসক্রিপশন যুক্ত করতে হবে। তারপরে আপনাকে আপনার নিজের পেইজ লাইক করতে বলা হবে। তারপরে আপনার ফেসবুকের পেইজের প্রত্যেকটা সেকশন সঠিকভাবে আপনার ব্যবসার তথ্য দিয়ে পূরণ করবেন।

 

ফেসবুক পেইজ তৈরি করার সময় নিচের বিষয়গুলোর দিকে লক্ষ্য রাখবেন,

  • শেয়ার করা যায় এবং উচ্চ কোয়ালিটি সম্পন্ন কন্টেন্ট তৈরি করবেন।
  • আপনার নিজের প্রোফাইলে যেসব ফ্রেন্ড রয়েছে তাদেরকে শুরুতে আপনার ফেসবুক পেইজে ইনভাইট করুন।
  • আপনার কাছে যদি ইমেইল লিস্ট সংগ্রহ করা থাকে, আপনার ব্যবসায়ের জন্য; তাহলে তাদেরকে আপনার ফেসবুকের পেইজে যুক্ত হওয়ার জন্য ইমেইল করতে পারেন।
  • আপনার বিজনেস কার্ডসহ যেসব জায়গায় ফেসবুক পেইজকে যুক্ত করা উচিৎ সেগুলোতে যুক্ত করার সুবিধার্থে পেইজের ইউজারনেম মডিফাই করুন।
  • আপনার পুরনো ক্রেতাদের কাছে বিজনেস লেটার পাঠিয়ে তাদেরকে আপনার নতুন ফেসবুক পেইজ সম্পর্কে জানানোর ব্যবস্থা করুন।
  • শুরুতে একসাথে বড় অংকের প্রমোট না করিয়ে, ছোট অংকের অ্যাডভার্টাইজমেন্ট চালিয়ে দেখতে পারেন।

 

ফেসবুকের কাস্টম ওয়েলকাম মেসেজ

ফেসবুক পেইজের দ্বারা আপনার ক্রেতাদের কাছে আপনি শুরুতেই ওয়েলকাম মেসেজ পাঠাতে পারবেন। এতে করে আপনার ক্রেতাদের কাছে পুশ নোটিফিকেশন যাবে ও তারা আপনাকে একই সুযোগে মেসেজ পাঠাতে পারবে। আপনার ফেসবুকের ওয়েলকাম পেইজ যুক্ত করার জন্য আপনি বেশ কিছু ভালোমানের টুলস ব্যবহার করতে পারেন। যেগুলো হচ্ছে,

  • পেইজমোডো : এর বৈশিষ্ঠ্যগুলো হচ্ছে কাস্টোমাইজড টেমপ্লেট, ফটো গ্যালারি, লাইক গেইটস, ভিডিও টেমপ্লেট, ফ্যান কুপন, ম্যাপস এন্ড লোকেশন, টুইটার ফিড এবং কন্টাক্ট ফর্ম।
  • ট্যাব সাইড : এর বৈশিষ্ঠ্যগুলো হচ্ছে কাস্টম নেইমড ট্যাবস, কাস্টম ট্যাব আইকন, সাবপেইজ ক্রিয়েশন, ড্রাগ এন্ড ড্রপ বিল্ডার, ফেসবুক কমেন্টস প্লাগইন, ডকুমেন্ট প্লাগইন, ফ্যান অনলি কন্টেন্ট ক্রিয়েশন এবং ভিডিও এম্বেডিং।
  • শর্টস্ট্যাক : এর বৈশিষ্ঠ্যগুলো হচ্ছে সুইপস্ট্যাকস, ফ্যান অনলি কন্টেন্ট ক্রিয়েশন, ফুল ডিজাইন কন্ট্রোল, ফটো আপলোড, কাস্টম ট্যাব আইকন, মাল্টিপল ইউজার কালেকশন, ট্যাব অ্যানালিটিক্স এবং ভিডিও এম্বেডিং।
  • ট্যাব প্রেস : এর বৈশিষ্ঠ্যগুলো হচ্ছে সিম্পল ইউজার ইন্টারফেস, ফ্লিক্সিবিলিটি টু অ্যাড কন্টেন্ট এন্ড এইচটিএমএল কোড এবং ফ্যান প্রটেকশন।
  • এফবিআই ফ্রেমস : এর বৈশিষ্ঠ্যগুলো হচ্ছে সিম্পল ইউজার ইন্টারফেস, ড্রাগ এন্ড ড্রপ বিল্ডার, প্রি ডিজাইনড টেমপ্লেট, কাস্টম বিল্ট পেইজ, অ্যাডভান্সড কোডিং ফিচার, ভিজ্যুয়াল এডিটর এবং ডিল ফাংশনালিটি।

 

ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার ব্যবসাকে সঠিকভাবে প্রমোশনের জন্য আপনাকে সঠিক ক্লায়েন্ট সিলেক্ট করে তারপরে প্রমোট করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, আপনার প্রতিযোগী আপনার চেয়ে অল্প অংকের অর্থ খরচ করেও আপনার চেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছে। আর এর কারণ হচ্ছে, আপনি যখন আপনার পেইজ থেকে প্রমোট করছেন তখন সঠিকভাবে ক্লায়েন্ট সিলেক্ট না করে প্রমোশনের কারণেই প্রয়োজনীয় ক্লায়েন্টের কাছে না পৌঁছে সেটা ভুল মানুষের কাছে পৌঁছেছে।

 

ফেসবুকের ডিফল্ট কিছু টুলস আছে, যেগুলো আপনি আপনার পেইজের পাবলিশিং টুলস নামক সেকশনে খুঁজে পাবেন। ওখান থেকে একটা টুলসের নাম হচ্ছে, পেইজেস টু ওয়াচ। এই টুলসের সাহায্যে আপনি দেখতে পারবেন যে, আপনার কোন পোস্টের অ্যাঙ্গেজমেন্ট কেমন হচ্ছে বা হয়েছে আর একইসাথে আপনার প্রতিযোগী পেইজের অবস্থান।

এছাড়াও পেইজকে ব্যবহারের জন্য কিছু টেকনিক ব্যবহার করতে পারেন। যেমন, বাজসুমোর একটা পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে যে, যেসব ছবি আপনি ইন্সটাগ্রাম দিয়ে আপনার প্রোফাইলে শেয়ার করবেন সেগুলোতে অ্যাংগেজমেন্ট অন্যান্য পোস্টের চেয়ে ২৩ শতাংশ বেড়ে যায়।
 

এরকম বেশ কিছু ভালোমানের টেকনিক খুঁজে বের করুন, যেগুলো ব্যবহার করলে আপনার ফেসবুক পেইজের গ্রোথ বৃদ্ধি পাবে। মনে রাখবেন, প্রত্যেকটা ব্যবসার মেথড, সিস্টেম আর মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি এক হলেও পরিসংখ্যানে একই। সুতরাং, আপনার ব্যবসার পরিসংখ্যান আপনাকেই খুঁজে বের করতে হবে।

ছবি
সেকশনঃ অন্যান্য
লিখেছেনঃ মুনতাসির মাহদী তারিখঃ 13/10/2019
সর্বমোট 572 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ