ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

চন্দ্রালোকের ভোট

দুনিয়াদারি সব বন্ধ করে শান্তি-শান্তি ভাব দেখিয়ে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করা কোনো সমাধান হতে পারে না। যেমন- মাথা কেটে মাথাব্যথা সারানো কোনো সমাধান নয়। গুরুত্বপূর্ণ কোনো দিনক্ষণ বা ইভেন্ট আসলেই গাড়িঘোড়া বন্ধ করে দেওয়া, ঘর থেকে বের হবার উপরে জোর নিয়ন্ত্রণ চাপানো, এগুলো কিসের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা?

ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন উপলক্ষে সতর্কতার যে ফিরিস্তি দেখলাম তাতে প্রচণ্ড শীতে যেমন হয়, তেমনি আতঙ্কে বিচি ভিতরে ঢুকে যাবার অবস্থা। এমন আতঙ্কিত গণতন্ত্র নিয়ে জনগণ কতোটা সুখী সে কথা জনগণই টের পাচ্ছে। সুশাসন না থাকলে গণতন্ত্রের বিচারে ভোটের চার পয়সার কোন দাম নাই, আছে ব্যক্তির পরিবর্তন।

গাড়িঘোড়া বন্ধের যে কতো বাহানা তার ইয়ত্তা নাই। যেমন- কারণে অকারণে ভিআইপি চলাচলের জন্য গাড়ী বন্ধ। দেশে ভিআইপি’র সংখ্যা কতো আমি জানি না, এটা কেউই জানে না। এই দেশে যে-যেখানে যেমনি পারে, সে তেমনি সেখানে ভিআইপিগিরি ফলায়। দেশে মশার অত্যাচার বেশি, নাকি ভিআইপি’র অত্যাচার বেশি তা নিয়ে গবেষণা হতে পারে।

কিছুদিন আগে দেখলাম পঞ্চম গ্রেডের একজন সরকারি চাকুরে এয়ারপোর্টে ভিআইপি’র প্রটোকল নিয়ে খুব গুরুগম্ভীর ভাব নিচ্ছে। পরিচিত হলেও ওই সময়ে সে আমারে চিনলো না। তাতে যদিও আমার কোনো লোমই ছেঁড়া যায়নি। জাহাজ নোঙ্গর করা মোটা মোটা দড়ির মতো ভিআইপিদের বড় বড় লোমে সারা দেশ পাটের গাইটের মতো বান্ধা থাকার পরেও যেখানে দেশেরই কিছু হচ্ছে না, সেখানে আমার মতো তলানিতে থাকা পাবলিকের লোম না থাকলেই বা তাতে দেশের কি? ডিমে তা দেওয়ার মতো দেশে আছে ভিআইপিদের লোমে তা দেওয়া গণতন্ত্র। এই গণতন্ত্র পাবলিকরে পোঁছেও না।

তো এই বড় বড় লোমওয়ালা ভিআপিদের যন্ত্রণায়ও যে কতবার কতো রাস্তাঘাট বন্ধ থাকে সেটাও টের পায় পাবলিকেই। একদিন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যারার সময়ে দেখি রাস্তা বন্ধ। খোঁজ নিয়ে জানলাম ঢাকা থেকে এক সচিব এসেছে তার জন্য রাস্তা বন্ধ, এটা নাকি প্রটোকল! পাবলিক সচিবের চৌদ্দগুষ্টি তুলে যে গালাগাল দিচ্ছে তা শুনলে যৌনমিলন ছাড়াই সচিবের পরিবারে বাচ্চা পয়দা হবার কথা।

কিছু করার নাই! যুগ্ম-সচিবের মতো পদে থেকে, উপ-সচিবের মৌখিক নির্দেশে ফেরি বন্ধ করে রেখে, ফেরিতে থাকা এম্বুলেন্সের একজন রোগীর মৃত্যুর পর, সে খবর ভাইরাল হওয়া স্বত্বেও, তদন্ত কমিটি করে যেখানে প্রকৃত দোষীদের কারোই কোনো শাস্তি হয় না, সে দেশে ভিআইপি নামক মানুষদের দুর্গন্ধযুক্ত লোমের নিচেয় চাপা পড়ে দমবন্ধ হয়ে মরে যাওয়াই নিয়তি। ব্যতিক্রম ছাড়া সরকারি পোস্ট-পজিশনে থাকা লোকজনের কাছে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিও হলো কাকতাড়ুয়া। এদের হম্বিতম্বিও ওই পাবলিকেরই সাথে। পাবলিক সামনে-পিছনে দু’দিক দিয়েই মারা খায়। এটাই এ গণতন্ত্রের মোহময়ী রূপ। এ রূপ নিয়ে আমরা গর্বে গর্ভবতী।

পাবলিকের যেখানে চার পয়সার‌ও দাম নাই, সেখানে কী মূল্য আছে এই লোমের গণতন্ত্রের আর এই লোমের উন্নয়নের! সম্মানের সাথে না খেয়ে থাকাও অসম্মানের সাথে ভালো খাবার চেয়ে ভালো। যে গণতন্ত্রে পাবলিকের বলি হয়, অসম্মান হয়- সে গণতন্ত্র থাকলেই কি, আর না থাকলেই কি! এ দেশের নির্বাচনের রূপ দিবালোকের মতো পরিষ্কার, যদিও ভোট হয় চন্দ্রালোকে বা নিশি-আধারিতে।

হাসপাতাল বন্ধ থাকলে হাসপাতালে কোনো রোগী মারা যায় না, মানুষকে ঘরের বাইরে বের হতে না দিলে ঘরের বাইরেও কোনো দুর্ঘটনা ঘটে না। এই হলো শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার উচ্চমার্গীয় পদ্ধতি।

সকালে বিবিসি নিউজ লিঙ্কে দেখলাম- বাংলাদেশ গণতন্ত্রের তালিকায় নাই। যে বাস্তবতা চলছে তাতে থাকার কথাও না। যদিও তাতে কিছুই আসে যায় না- কারণ গণতন্ত্র নিয়ে আমাদের তর্জন-গর্জন তো সেইরকম আছে।

ছবি
সেকশনঃ সাধারণ পোস্ট
লিখেছেনঃ যুক্তিযুক্ত তারিখঃ 31/01/2020
সর্বমোট 902 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ