ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

করোনাভাইরাস: কৃষি যন্ত্রায়ণ নিয়ে সমসাময়িক ভাবনা

আমরা যদি একটু বিষয়ের গভীরে যাই তবে দেখি গবেষণাতে পাওয়া গেছে ১ হেক্টর জমির ধান কর্তন করতে গড়ে ২০-২৫ জন শ্রমিক প্রয়োজন হয়, সেখানে এই প্রায় সাড়ে ৯ লক্ষ হেক্টর জমির ধান কাটতে প্রায় ১৯-২০ লক্ষ শ্রমিকের শ্রম যুক্ত। ধান কাটবার মৌসুম ১৫-২০ দিন ব্যাপী এবং সবখানে একসাথে না হওয়াতে এই বিপুল শ্রমিকের শ্রম দৃশ্যমান হয় না বা নাগরিক দৃষ্টিতে ধরা পড়ে না। কিন্তু প্রচণ্ড শ্রমঘন ও গুরুত্বপূর্ণ ফসল কর্তনের বিষয়টি জাতির খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ধান কাটবার পর থেকে সেটাকে চাল করে ভাত হয়ে আমাদের টেবিলে আসতে মাঝে আরো অনেকগুলো শ্রমঘন পর্ব পার হতে হয়। কর্তনের পর ধান মাড়াই, মাঠ থেকে কৃষকের উঠানে আসা, ঝাড়াই, শুকানো ও সংরক্ষণ সেই ধাপগুলোর প্রাথমিক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হেক্টর প্রতি এই কাজ গুলো করতে আরো প্রায় ২০ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয় আমাদের শ্রমিক দিয়ে করতে। ধন্যবাদ দিয়েছি প্রথমে, কারণ এই বিপুল শ্রমিকের বিষয়টি মাথায় রেখে এই দুর্যোগকালে আমাদের সরকার শ্রমিকের পরিবর্তে যন্ত্রে আস্থা রেখেছেন।

ধান কাটবার জন্য সাধারণত আমাদের দেশে যে যন্ত্র জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তার নাম রিপার। এই যন্ত্র দিয়ে ঘণ্টায় ১ বিঘার উপর জমির ধান কাটা যায়। জমিতে ধান কাটবার পর তা সারি করে জমিতে পরে ও পরে তা তুলে আঁটি বেঁধে মাড়াই এর জন্য বহণ করা হয়। আরেকটি যন্ত্র মাত্রই ব্যবহার শুরু করেছি আমরা, সেটাও সরকারের প্রণোদনার ফলেই সম্ভব হয়েছে যার নাম কম্বাইন হারভেস্টার। একটি কম্বাইন হারভেস্টার দিনে ৬ হেক্টর জমির ধান কেটে, মাড়াই, ঝাড়াই করে বস্তা বন্দী করতে পারে যা পরবর্তীতে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষন করা যায় বা চাল করতে ব্যবহার করা যায়। রিপার ও কম্বাইন চালাতে একজন দক্ষ অপারেটর ও একজন বা দু’জন সহকারী প্রয়োজন হয়। রিপার যন্ত্রকে চালানোর জন্য পিছনে অপারেটরকে হাঁটতে হয়ে, কম্বাইন হারভেস্টরে অপারেটর যন্ত্রের উপর বসে যন্ত্রকে চালাতে পারে।

মহামারী করোনা শুধু হাওরের ফসল কাটাতে শ্রমিক পরিবহণ ও শ্রমিক ব্যবস্থাপনাতে সমস্যা করেনি, বাকী ৭৫% জমিতে যে বোরো ফসল বর্তমানে আছে তার কর্তন ও কর্তন পরবর্তী কাজের জন্যও তা সমস্যা। হাওরে আমরা একটা শিক্ষা অর্জন করেছি এবং একই সাথে আমাদের কৃষক ভাইদের প্রতি আমাদের চিরকালের মতো আস্থা আছে যে উনারা বাকী ৭৫ ভাগ জমির ধানও কর্তন করতে পারবেন। কিন্তু এই কাজের জন্য যন্ত্রকে গুরুত্বপূর্ণ করতে হবে। হাওরে বরাদ্দকৃত নতুন ১৮০ কম্বাইন হারভেস্টার ও ১৩৭টি রিপার যন্ত্রকে কাজে লাগাতে হবে, সেইসাথে পূর্বের ২২০টি কম্বাইন হারভেস্টার সহ এক হাজারের উপর রিপারকে ব্যবহার করতে হবে। সহজ ভাবে, শ্রমিক পরিবহণ না করে যন্ত্রকে পরিবহণ করতে হবে যেখানে পাকা ধান আছে সেখানেই। আগামী সপ্তাহখানেকের মাঝে দেশ জুরে ধান কর্তন পুরোদমে শুরু হবে, সময় তাই কম।

কৃষিতে যন্ত্রায়ণ বা যন্ত্রের ব্যবহার নিয়ে ভাববার সময় আমাদের এখানে সবচেয়ে বড় ভুল করা হয় যা তা হলো– যন্ত্র হলেই তো হয় এমন ভাবনা। এর ফলে নানান বিষয় ও ভাবনার লোক যন্ত্র নিয়ে বলে, তাদের কারো কারো হাতে আবার উচ্চস্বরের যন্ত্রও থাকে ফলে তাদের দৌড়াত্বে আসল কথাগুলো হারায়। কৃষককে একগাদা যন্ত্র দিলেই সেটা কৃষি যন্ত্রায়ণ না, এই বোধটা জরুরী। সারা বিশ্বে স্বীকৃত একটি উচ্চ ইঞ্জিনিয়ারিং বিদ্যা এটা, যদিও আমাদের এখানে অবহেলিত। সুতরাং যন্ত্রায়ণ নিয়ে ভাবনার সুযোগ প্রচুর এবং প্রয়োজন বিষেশায়িত প্রতিষ্ঠান ও মানবসম্পদ। আমাদের বিষেশায়িত প্রতিষ্ঠান আছে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগসহ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর বিভাগ আছে। এছাড়াও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম আছে কৃষি যন্ত্রায়ণে। করোনা মহামারীকে সামনে রেখে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাই সামগ্রিক ভাবনার প্রয়োজন। গবেষণার সুযোগ তৈরী করা প্রয়োজন হাওর অঞ্চলের জন্য যন্ত্রায়ণে করণিয় কী তা জানতে নতুবা পদ্ধতিগতভাবে আমরা মজবুত অবস্থানে পৌছাতে ব্যর্থ হবো আর ফি বছর একই ঘটনার জন্ম হবে। করোনা সামনে রেখে এই পরকিল্পনা আমাদের নিতে হবে দীর্ঘ মেয়াদী কাজের অংশ হিসাবে।

সংক্ষেপিত, পুরোটা পড়তে :
এখানে ক্লিক 

ছবি
সেকশনঃ কৃষি
লিখেছেনঃ দুরন্ত.. তারিখঃ 08/05/2020
সর্বমোট 263 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ

সর্বোচ্চ পঠিত

এই তালিকায় একজন লেখকের সর্বোচ্চ ২ টি ও গত ৩ মাসের লেখা দেখানো হয়েছে। সব সময়ের সেরাগুলো দেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন