ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

বৈশালীর নগরবধু আম্রপালি এবং উচ্চমার্গীয় বঙ্গললনা পরীমণি

এক। খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ অব্দে বৈশালী নামক যায়গাটি ছিল প্রাচীন ভারতের একটি শহর। শহরটি বর্তমানে ভারতের বিহার রাজ্যের তিরহুত বিভাগের অন্তর্গত একটি প্রত্নক্ষেত্র। একসময়ে বৈশালী শহরটি ছিল লিচ্ছভি গোত্রের রাজধানী। বৈশালী শহরে আম্রপালি নামে ছিলেন একজন অনিন্দ্য সুন্দরী নারী, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে যাকে বাননো হয়েছিল প্রসিদ্ধ নগরবধূ বা রাজ বারাঙ্গনা তথা রাজনর্তকী। এই নগরবধূ বৈশালী শহরে প্রচণ্ড দাপটের সাথে বসবাস করতেন। তিনি বিবিধ শিল্পজ্ঞানেও অত্যন্ত প্রতিভাবান ছিলেন। আম্রপালি নামটি দুটি সংস্কৃত শব্দের সংমিশ্রণ থেকে উদ্ভূত: আম্র- যার অর্থ আম এবং পল্লভা- যার অর্থ কচিপাতা। আম্রপালির রূপে পাগল ছিল পুরো পৃথিবী এবং এই রূপই একসময়ে তার জন্য কাল হয়ে উঠেছিল। তিনি ছিলেন ইতিহাসের এমন একজন নারী, যাকে রাষ্ট্রীয় আদেশে পতিতা বানানো হয়েছিল! ইতিহাস থেকে জানা যায়, মাহানামন নামে এক ব্যক্তি শিশুকালে আম্রপালীকে আম গাছের নিচে খুঁজে পান। তার আসল বাবা-মা যে কে ছিলেন ইতিহাসে তার উল্লেখ নাই। যেহেতু তাকে আম গাছের নিচে পাওয়া যায় তাই তার নাম রাখা হয় আম্রপালী। শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে পা দিতেই আম্রপালীকে নিয়ে হইচই পড়ে যায়। তার রূপে চারপাশের মানুষ পাগল হয়ে ওঠে। দেশ-বিদেশের রাজা, রাজপুত্র থেকে শুরু করে সমাজের সম্ভ্রান্ত ও সাধারণ মানুষ তার জন্য পাগলপ্রায় হয়ে ওঠে। নানা জায়গায় তাকে নিয়ে দ্বন্দ্ব, ঝগড়া-বিবাদ‌, সংঘর্ষ সংগঠিত হতে থাকে। সবাই তাকে একনজর দেখতে চায়, বিয়ে করতে চায় । এ নিয়ে আম্রপালীর পালিত মা-বাবা ভয়াবহ সমস্যায় পড়েন। তারা তখন বৈশালীর গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে এর সমাধান বের করার জন্য অনুরোধ করেন। বৈশালীর সকল ক্ষমতাবান ও ধনবান ব্যক্তি মিলে বৈঠকে বসে নানা আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেন যে- আম্রপালীকে কেউ বিয়ে করতে পারবে না। কারণ, এমন রূপসী নারী কারো একা হতে পারে না। আম্রপালী হবে সবার। সে হবে একজন উম্মুক্ত নগরবধু। বৈশালীর রাজা মনুদেব আম্রপালিকে নগরীতে নৃত্য পরিবেশন করতে দেখে তাকে নিজের অধিকারে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেন এবং আম্রপালির বিয়ের দিনে তার শৈশব প্রেম এবং হবু বর-পুষ্পকুমারকে হত্যা করেন। একটি সরকারি ঘোষণায় তিনি আম্রপালিকে বৈশালীর 'কনে' অর্থাৎ, নগরবধূ হিসেবে ঘোষণা করেন। তাকে সাত বছরের জন্য রাজ্যের সবচেয়ে সুন্দরী ও মেধাবী মেয়েদের জন্য নির্ধারিত "বৈশালী জনপদ কল্যায়ণী" উপাধিতে ভূষিত করেন। এটা ছিল একটা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। এভাবে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে কাউকে পতিতা বানানো হয়েছে ইতিহাসে এমন নজির আর পাওয়া যায় না। এ জন্য আম্রপালী পাঁচটি শর্ত রাখেন- (১) নগরের সবচেয়ে সুন্দর জায়গায় তার ঘর হবে। (২) তার মুল্য হবে প্রতি রাত্রির জন্য পাঁচশত স্বর্ণমুদ্রা। (৩) একবারে মাত্র একজন তার গৃহে প্রবেশ করতে পারবেন। (৪ ) শক্র বা কোন অপরাধীর সন্ধানে প্রয়োজনে সপ্তাহে সর্বোচ্চ একবার তার গৃহে প্রবেশ করা যাবে। (৫) তার গৃহে কে এলেন আর কে গেলেন- এ নিয়ে কোন অনুসন্ধান করা যাবে না । সবাই তার সব শর্ত মেনে নেন। আম্রপালির সঙ্গ পেতে এবং শিল্প প্রতিভা দেখতে প্রতি রাতে তাকে পঞ্চাশ কর্ষপান মুদ্রা বা পাঁচশত স্বর্ণমুদ্রা দিতে হতো, আরও দিতে হতো উপঢৌকন।‌ এভাবে তিনি এতো অর্থবিত্ত আয় করেছিলেন যে, তার অর্থ-সম্পদের পরিমাণ কিছু কিছু রাজার কোষাগার থেকেও সমৃদ্ধ ছিল। অধিক সম্পদের মালিক হবার পাশাপাশি আম্রপালীর রূপের কথা দেশ-বিদেশে বেশি করে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। প্রাচীন ভারতের মগধ রাজ্যের রাজা ছিলেন বিম্বিসার। সভাসদ মারফত তিনি আম্রপালীর রূপ-গুণের কথা জানতে পারেন, দেশ-বিদেশের বহু রাজা-রাজপুত্র, গুণী-মানী আম্রপালীর প্রাসাদের সামনে তার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। কিন্তু মন না চাইলে আম্রপালী কাউকে দেখা দেন না। এসব কথা শুনে আম্রপালীর প্রতি বিম্বিসারের আগ্রহ বেড়ে যায়। তিনি ছদ্মবেশে বৈশালী রাজ্যে আম্রপালীর প্রাসাদ আম্রকুঞ্জে গিয়ে বহু সাধনার পরে আম্রপালীকে দেখার সুযোগ পান। আম্রপালীকে দেখে রাজা চমকে উঠেন, এতো কোনো নারী নয়; এ তো সাক্ষাৎ পরী! এতো রূপ মানুষের কীভাবে হতে পারে! অবাক ব্যাপার হলো গুণী আম্রপালী প্রথম দেখাতেই বিম্বিসারকে মগধ রাজ্যের রাজা হিসেবে চিনে ফেলেন।‌ এজন্য রাজার বিস্ময়ের সীমা থাকে না। রাজা সাথে সাথে তাকে তার রাজ্যের রাজরাণী বানানোর প্রস্তাব দেন। কিন্তু আম্রপালী জানান, তার রাজ্যের মানুষ এটা কখনোই মেনে নেবে না। উল্টো বহু মানুষের জীবন যাবে, রক্তপাত হবে। তাই রাজাকে তিনি চলে যেতে বলেন। কিন্তু রাজা বিম্বিসার বৈশালী আক্রমণ করে আম্রপালীকে পেতে চান। আম্রপালী তার নিজের রাজ্যের কোন ক্ষতি চান না। তাই তিনি রাজাকে তার নিজ রাজ্যে ফেরত পাঠান এবং বৈশালীতে কোনো আক্রমণ হলে তিনি তা মেনে নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন । ওদিকে রাজা বিম্বিসারের সন্তান অজাতশত্রুও আম্রপালীর প্রেমে মগ্ন ছিলেন। তিনি পিতা বিম্বিসারকে আটক করে নিজে সিংহাসন দখল করে বসেন এবং আম্রপালীকে পাওয়ার জন্য বৈশালী রাজ্য আক্রমণ করেন কিন্তু দখল করতে সক্ষম হননি বরং খুব বাজেভাবে আহত হন। পরবর্তীতে আম্রপালীর সেবায় সুস্থ হয়ে গোপনে তার নিজের রাজ্যে ফেরত যান। আম্রপালী বিম্বিসারের সন্তান অজাতশত্রুর বিয়ের প্রস্তাব‌ও সবিনয়ে ফিরিয়ে দেন। তখন গৌতম বুদ্ধর সময়কাল। গৌতম বুদ্ধ তার কয়েকশ সঙ্গী নিয়ে বৈশালী রাজ্যে আসেন। একদিন শ্রমণ নামে এক বৌদ্ধ তরুণ সন্ন্যাসীকে দেখে আম্রপালীর তাকে মনে ধরে। তিনি সেই সন্ন্যাসীকে চার মাস তার কাছে রাখার জন্য গৌতম বুদ্ধকে অনুরোধ করেন। সবাই ভাবলেন, বুদ্ধ কখনই রাজি হবেন না। কারণ, একজন সন্ন্যাসী এমন একজন পতিতার কাছে থাকবেন; এটা হতেই পারে না। কিন্তু গৌতম বুদ্ধ শ্রমণকে রাখতে রাজি হলেন এবং এটাও বললেন- আমি শ্রমণের চোখে কোনো কামনা-বাসনা দেখছি না। সে চার মাস আম্রপালীর সাথে একত্রে থাকলেও নিষ্পাপ হয়েই ফিরে আসবে- আমি নিশ্চিত ! চার মাস শেষ হলো। গৌতম বুদ্ধ তার সঙ্গীদের নিয়ে চলে যাবেন। তরুণ শ্রমণের কোনো খবর নেই। তবে কি আম্রপালীর রূপের কাছে হেরে গেলেন শ্রমণ? সেদিন সবাইকে অবাক করে দিয়ে তরুণ শ্রমণ ফিরে আসেন। তার পিছনে পিছনে আসেন আম্রপালী। আম্রপালী বুদ্ধকে বলেন, তরুণ শ্রমণকে প্রলুব্ধ করতে কোনও চেষ্টাই তিনি বাকি রাখেননি তারপরেও তিনি শ্রমণকে প্রলুব্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। পুরুষকে প্রলুব্ধ করার এটিই তার জীবনের প্রথম এবং একমাত্র ব্যর্থতা। গৌতম বুদ্ধের প্রতি আম্রপালি শ্রদ্ধায় অবনত হন এবং সবকিছু ত্যাগ করে বাকী জীবন গৌতম বুদ্ধের চরণে কাটিয়ে দেবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বাংলা ভাষায় আরহাত এবং পালি ভাষায় আরহান্ত শব্দের অর্থ- যারা বুদ্ধের উপদেশ অনুসরণ করে নির্বান বা পরিশুদ্ধতায় পৌঁছেছেন। বুদ্ধের উপদেশ অনুসরণ করে আম্রপালী আরহান্ত হয়েছিলেন। আম্বপালি উদ্যানে আম্রপালির সঙ্গে অবস্থান করেছিলেন বুুুদ্ধ। পরে আম্রপালি উদ্যানটি দান করেছিলেন এবং সেখানে বুদ্ধ তার বিখ্যাত আম্বপালিকা সূত্র প্রচার করেছিলেন। ইতিহাস বিখ্যাত সেই রমণী আম্রপালীর নামেই ১৯৭৮ সালে ভারতের আম গবেষকরা ‘দশোহরি’ ও ‘নিলাম’ এই দুই জাতের আমের মধ্যে সংকরায়ণের মাধ্যমে নতুন জাতের এক আম উদ্ভাবন করেন এবং নাম রাখেন ‘আম্রপালী' দুই। শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমণি ১৯৯২ সালের ২৪ অক্টোবর খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলায় মা সালমা সুলতানা ও বাবাকে হারানোর পর বড় হয়েছেন পিরোজপুরে নানা শামসুল হক গাজীর কাছে। সেখান থেকেই তিনি তাঁর মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেন। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে বাংলা বিভাগে ব্যাচেলর অফ আর্টস (বিএ, সম্মান) এ পড়াকালীন ২০১১ সালে ঢাকায় চলে আসেন এবং বুলবুল ললিতকলা একাডেমি (বাফা)য় নাচ শেখেন। পরীমণি মডেলিংয়ের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি বিভিন্ন নৃত্যানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং টিভি নাটকে অভিনয় করেন। তিনি মডেলিং থেকে ছোটপর্দায় এবং তারপর রূপালী পর্দায় সমসাময়িক নায়িকাদের তুলনায় দাপটের সাথে অভিনয় শুরু করেন। রূপে-গুণে অনন্যা পরীমণির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ২০১০ সালে তার খালাতো ভাই ইসমাইল হোসেন তাকে পারিবারিক ভাবে বিয়ে করেন। যৌতুক দিতে না পারায় ২ বছর পর সে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। ২৮ এপ্রিল ২০১২ সালে তার বিয়ে হয় কেশবপুরের ফুটবলার ফেরদৌস কবীর সৌরভের সাথে এবং সেখানেও বিচ্ছেদ হয়। এরপর ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে সাংবাদিক তামিম হাসানের সাথে পরীমণির বাগদান সম্পন্ন হয়, পরে বিয়ে করে সংসার পাতেন এবং পরবর্তীতে তাদের বিচ্ছেদ হয়। ৯ মার্চ ২০২০ সালে তিনি পরিচালক কামরুজ্জামান রনিকে তিন টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন এবং ঐ বছরেই তাদের বিচ্ছেদ হয়। অভিনয় জীবনে পরীমণি বেশ কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছেন। বাবিসাস পুরস্কার- ২০১৬, মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার- ২০১৯, ভারত-বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৯, সিজেএফবি পারফরম্যান্স পুরস্কার-২০২০ তার মধ্যে অন্যতম। ২০২১ সালের ৪ঠা আগস্ট পরীমণির বনানীর বাসায় র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নের অভিযান শেষে বাসায় অনুমোদনহীন মিনিবার পরিচালনা ও মাদকদ্রব্য রাখার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। ইতোপূর্বে ১৪ জুন সোমবার পরীমণি তাকে ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা করেন। এতে নাসির উদ্দিন ও তার বন্ধু অমির নাম উল্লেখ করে আরও ৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। মামলা নম্বর ৩৮। মামলার নথি থেকে জানা যায়, ৯ জুন, বুধবার রাতে ঢাকা বোট ক্লাবে পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টা করা হয়। রোববার, ১৩ জুন রাতে বিষয়টি তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তুলে ধরেন এবং পরে তার নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সামনে এ ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। ঢাকা বোট ক্লাব নামটি জনসাধারণের কাছে অপরিচিত হলেও এই মামলার মাধ্যমে সেটি ব্যপক পরিচিতি লাভ করে। ক্লাবটির সভাপতি পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ এবং সেক্রেটারি লে. কমান্ডার (অব.) তাহসিন আমিন। পরীমণির অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন মাহমুদ উত্তরা ক্লাবের তিনবারের সভাপতি বোট ক্লাবের নির্বাহী কমিটির সদস্য। নায়িকা পরীমণিকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তারের পর তাকে ক্লাব থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী- অবসরে বিনোদন, খেলা ও শরীর চর্চাকে উৎসাহিত করার জন্য বোট ক্লাবে আছে নানা ধরনের জলজ ক্রীড়ার ব্যবস্থা। এসব উদ্দেশ্যেই ওই ক্লাব গঠনের উদ্যোগ নেন পারটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রুবেল আজিজ। ২০১৪ সালে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে কিছু জমি ক্রয় করা হয় বোট ক্লাবের নামে। বর্তমানে ঢাকা বোট ক্লাবের জমির পরিমাণ প্রায় ৬০ বিঘা। কিছু জমি ক্রয় করলেও অভিযোগ রয়েছে, সরকারি-বেসরকারি জমি দখলের মধ্য দিয়েই তুরাগ নদীর তীরে গড়ে উঠেছে ঢাকা বোট ক্লাব। সমাজের প্রভাবশালীরা এই ক্লাবে জড়িত থাকার কারণে ভুক্তভোগীরা সুষ্ঠু বিচার পান না। স্থানীয়রা জানান, গত ফেব্রুয়ারি থেকে চালু হয়েছে ক্লাব। এই ক্লাবের সদস্যদের ৪০ ভাগই ঢাকার অভিজাত অন্যান্য ক্লাবেরও সদস্য। তিন। আম্রপালীকে রাষ্ট্রীয় ঘোষণার মাধ্যমে বানানো হয়েছিল উম্মুক্ত নগরবধু, আর বঙ্গ ললনা পরীমণির কাছে দেশের অঢেল অর্থবিত্ত, ক্ষমতার মালিকরা প্রমোদের নিমিত্তে নিজেদেরকে সমর্পণ করে তাকে বানিয়েছে বঙ্গের প্রমোদবালা। আম্রপালীর কাছে যারা যেতো তাদের পরিচয় থাকতো প্রকাশিত ও উম্মুক্ত। কোনো অপরাধী আম্রপালীর কাছে আশ্রয় নিলে সপ্তাহে একদিন রাষ্ট্র তাকে সেখান থেকে খুঁজে বের করতে পারতো। পরীমণির কাছে যারা যেতো তাদের পরিচয় উম্মুক্ত নয়। ওই সমস্ত ক্লাব থেকে সপ্তাহে একদিন অপরাধী ধরা তো দূরের কথা বরং ওগুলোইলোই হলো অপরাধ চক্র এবং অপরাধ থেকে চির পরিত্রাণ পাবার যন্তরমন্তর ঘর। তারেক জিয়ার হাওয়া ভবন ছিল অন্যায়-অপরাধ ও শক্তি-ক্ষমতার একটা অস্পর্শী কেন্দ্র। এখন ওইরূপ হাওয়া ভবনের সংখ্যা অগণিত। সাধারণ মানুষ এসবের কাছে বন্দী। জমিদার ও রাজরাজাদের শাসনামলে ইচ্ছেমাফিক মানুষকে হেনস্থা করা যেতো, এখনকার এই গণতন্ত্রহীন দেশেও সেরূপ হেনস্থা হতে হয়, প্রক্রিয়া শুধু ভিন্ন। পরীমণিকে সমর্থন করা বা না করা আমার এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। আমি শুধু বলতে চাই- পরীমণি হয়ে ওঠা খুব সহজ কাজ নয়। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা ও অধ্যবসায়ের পরে একজন পরীমণি হয়ে ওঠে। অথচ শক্তিধর মানুষগুলো ইচ্ছে করলেই নিজেদের অস্পর্শী রেখে তুড়ি মেরে এসব পরীমণিদের জিরো করে ফেলতে পারে। অসীম শক্তিধর ওই মানুষগুলো ছাড়া এই দেশের সমগ্র জনগণ‌ই জিরো, উলুখাগড়ার মতো আত্মসম্মানহীন হয়ে গণতন্ত্রহীনতার মধ্যে বেঁচে আছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাবৃত্তে এখন কোন শ্রমণ নাই, এখন কোনো আরহান্ত‌ও নাই যারা রাষ্ট্রের জন্য নির্বান বা পরিশুদ্ধ।

ছবি
সেকশনঃ সাধারণ পোস্ট
লিখেছেনঃ যুক্তিযুক্ত তারিখঃ 22/08/2021
সর্বমোট 87 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ