ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

ছোটদের জন্য বিজ্ঞান - ৩

আমরা এখন জানি যে প্রমাণিত বিষয়গুলো বিজ্ঞান। মানুষ কোন কিছু কেনো হয় এই প্রশ্ন করবার মধ্য দিয়ে প্রবেশ করে জানবার দুনিয়াতে। এই প্রশ্ন মানুষকে অনুসন্ধানী করে এবং এর ফলাফল হিসাবে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মানুষ নানান পরীক্ষা নিরীক্ষা বা প্রকৃয়ার ভিতরদিয়ে যে সত্যটি পায় তা বিজ্ঞান হয়ে ওঠে। 

প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ নানান বিষয় নিয়ে চিন্তা করে তার চারপাশে যা যা ঘটছে তা কেনো ঘটছে, কিভাবে ঘটছে তা জানবার চেষ্টা করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে মানুষ এই জানবার প্রকৃয়ায় কিছু ধারণা তৈরী করেছে যুক্তির মাধ্যমে। এই যৌক্তিক ধারনাই দর্শণ। যারা এই প্রকার চিন্তাশীল ও যৌক্তিক ধারণার জন্ম দিয়েছেন তাদের দার্শনিক বলে আমরা জানি। প্রাচীনকাল থেকে অনেক দার্শনিক পৃথিবীর সৃষ্টি, মানুষে মানুষে সম্পর্ক, সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঠামো, ভবিষ্যত কর্মপন্থা ইত্যাদি নিয়ে মতামত দিয়েছেন নিজ নিজ যুক্তিবোধের দ্বারা। প্রতিটি কাঠামো বা ব্যবস্থার বা পদ্ধতির কাজ করবার নানান বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। চিন্তার এই বিশাল জগতে এর পর যে চিন্তাগুলো প্রমাণিত ভাবে সঠিক হয়েছে সেগুলো বিজ্ঞান হয়ে উঠেছে। আবার অনেক চিন্তা প্রমাণ করা যায়নি বা প্রমাণ করা এখনও সম্ভব হয়নি বলেই আবার বাতিলও হয়ে যায়নি তার নানা রকম ব্যবহারিক যৌক্তিকতা থাকাতে। সমাজ, রাষ্ট্র, মানুষে মানুষে সম্পর্ক এই ধরনের বিষয়গুলো নিয়ে যে চিন্তা বা দর্শণ সেগুলোও সব প্রমাণকরা সম্ভব হয়নি তবে বাতিলও করা হয়নি ক্ষেত্র বিশেষে সেগুলোর ব্যবহারিক গুণ থাকবার জন্য। তাহলে আমরা দেখলাম দর্শণ থেকে বিজ্ঞান আসে তবে সকল দর্শনই বিজ্ঞান না। আজকে যা চিন্তা কালকে যখন তা প্রমাণিত বিষয় হবে তখন তা আর দর্শণ থাকে না বিজ্ঞান হয়ে ওঠে। 

আমরা যারা বিজ্ঞান নিয়ে পড়ি তারা অংক, পদার্থ বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান, রসায়ণ এমন নানান বিষয় নিয়ে পড়ি। অংক নিয়ে আমাদের অনেকের মাঝেই বেশ ভয়ও কাজ করে। আবার অনেকে অংক করে বেশ মজাও পায়। তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হলো বেশীরভাগ মানুষ বইয়ের অংকের সমাধান করতে পারলেও আসলে অংক বুঝে না। অংকের নানান সূত্র প্রয়োগকরতে অনেকেই বেশ পটু হলেও এই সুত্র কেনো হলো বা কেনোই বা এভাবে সুত্র প্রয়োগ করতে হবে সেটা না জেনেই অধিকাংশ মানুষ অংক করে। এখানে মজার বিষয় হচ্ছে প্রশ্নের অনুপস্থিতি। এর মুল কারণ আমাদের অংক করবার উদ্দেশ্য ও অংক শিক্ষার দুর্বলতা। পরীক্ষার খাতায় নম্বর বেশী পাবার জন্য আমরা যে অংক করি সেটা আসলে একধরনের মুখস্তবিদ্যা। তার জন্য দেখবে তোমার শিক্ষকেরা বার বার অংক করতে বলে, অনেক বেশী চর্চা করতে বলে অংক গুলো করতে। এতে করে অংক গুলো মুখস্ত হয়ে যায়। আবার অনেক শিক্ষককেও দেখবে একদম উত্তর সহ অংক মুখস্ত থাকে। যাই হোক - তাহলে অংক কি? আমরা এই ছোট প্রশ্নটির কি মানে জানি!!! আসলে অংক কি বিজ্ঞান? এই প্রশ্নটিও সামনে চলে আসে। আমরা যদি একটু গভীর ভাবে চিন্তা করি তাহলে দাড়াচ্ছে অংক ব্যবহারিক কাজের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতি।  এর পদ্ধতি ও সুত্রগুলো যা বিভিন্ন ভাবে  করা হয়েছে কাজের সুবিধার জন্য। সব ক্ষেত্রে আবার এই কথাও খাটে না। আবার যখন আমরা কোন বিষয়ে ধারনা করে সেটার সমাধানের জন্য অংকের আশ্রয় নেই বা সাহায্য নেই তখন আর সেটা বিজ্ঞান থাকে না। সেটা ধারণা হয়ে যায়। তাহলে বলা যায় সব অংকই বিজ্ঞান নয়। আবার অংক ছাড়া বিজ্ঞানও সম্ভব না। সিমীত পরিসরে এই বিশাল বিষয়বস্তুর আসলে কোন পরিস্কার ধারণা দেওয়াও সম্ভব নয়। বিষয়টি চিন্তা করবার ও প্রতিনিয়ত প্রশ্ন তৈরী করবার মতোই বিষয়। 

এখানে আসলে আমি তোমাদের বলতে চেয়েছি অংকের গুরুত্ব। কারণ বিজ্ঞানের চর্চা করতে গ্যালে অংক জানা ছাড়া বিজ্ঞান চর্চা আসলে অসম্ভব। আবার এই অংকের চর্চা মানে বইয়ের কিছু সমাধান নয়। জানতে হবে অংকের ভেতরকার মুল সৌন্দর্য। সংখ্যাগত বিশ্লেষণ আর কিছু প্রতিযোগীতা অংকের আসল সৌন্দর্যকে ঠিক ধরতে পারে না। তুমি যে কম্পিউটারে লিখছো, বা বইয়ের ছাপার অক্ষর পড়ছো সবখানেই অংকের ব্যবহার আছে। আমাদের এই যে শরীর বা মস্তিস্ক সেখানেও আছে অংকের নিয়ম। এই নিয়মের সবচেয়ে বড় প্রতিনিধি হচ্ছে সময়। আমরা যা কিছুই করি না কেনো সময় সেখানে একটি উল্লেখযোগ্য চাপ রাখে। প্রতিটি ঘটনা, প্রতিটি কাজের সাথে সময় জড়িত। সাথে থাকে ভৌত পদার্থ এবং স্থান। স্থান ও সময়ের সাথে ভৌত পদার্থের আচড়ণ ও ক্রিয়ার কৌশল জানাই মুলত বিশ্বকে তথা মহাবিশ্বকে জানবার একমাত্র উপায়। মানুষের এই যে রকেট, স্পেসশীপ/মহাশূণ্যযান, টেলিস্কোপ ইত্যাদির পিছনে মুল কাজ হলো মহাবিশ্বের নিয়মগুলোকে জানা। এই জানবার মাঝেই আছে মহাবিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করবার সুত্র।

চলবে ................ 

ছবি
সেকশনঃ বিজ্ঞান
লিখেছেনঃ দুরন্ত.. তারিখঃ 05/04/2016 12:56 PM
সর্বমোট 2908 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ