ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

প্রবন্ধ লেখার মাল মশলা

প্রবন্ধ কথাটি সংস্কৃত থেকে নেওয়া হয়েছে। এর প্রকৃতি - প্রত্যয়গত অর্থ হচ্ছে প্রকৃষ্ট বন্ধন। কিন্তু সে বন্ধন কিসে আবদ্ধ? আয়নিক না সমযোজী বন্ধনে। মোটেই না। এটা হল ভাব ও ভাষার বন্ধন। প্রবন্ধ রচনায় ভাব ও ভাষা দুটিই সমান প্রয়োজনীয়। ভাবের দ্বারা প্রাবন্ধিকের মৌলিকত্বের প্রমাণ হয় এবং ভাষার দ্বারা তার ভাষা জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায়। সুতরাং প্রাবন্ধিকের ভাষাজ্ঞান ও মৌলিক চিন্তাধারার বিকাশই প্রবন্ধ লেখার একমাত্র উদ্দেশ্য। প্রবন্ধ লিখতে হলে প্রবন্ধ লিখার রীতি সম্বন্ধে প্রাবন্ধিকের জানা একান্ত প্রয়োজন। আমি আমার মত করে কিছু রীতি বাতলে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ১) প্রবন্ধের শিরোনাম অনুযায়ী কোন কোন পয়েন্টগুলো বেশি মূল্যবান সেগুলো নোট করতে হবে। এবং সে অনুযায়ী গুছিয়ে অনুচ্ছেদগুলো লেখতে হবে। ২) প্রবন্ধের ভাষা সরল ও বক্তব্য সুস্পষ্ট হওয়া উচিত। দুরূহ শব্দ বিন্যাস ও অলংকারের বাড়াবাড়ি বর্জন করা উচিত। Jargon আর verbose words পরিত্যাগ করা উচিত। ৩) প্রবন্ধের সর্বত্র এক ভাষা এক রীতির বানান হওয়াই বাঞ্চনীয়। পুরনো বানান ও নতুন বানানের মিশ্রণ যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।সাধু কিংবা চলিত যে কোন ভাষাতেই প্রবন্ধ রচিত হতে পারে। ৪) প্রবন্ধে নিজের বক্তব্যের সমর্থনের জন্য উদ্ধৃতি বাক্যের ব্যবহার প্রয়োজনীয়। মনে রাখা দরকার, উপযুক্ত স্থানে উপযুক্ত উদ্ধৃতি বাক্য প্রবন্ধের মূল্য বাড়ায়। বৃথা পরের কথা টেনে এনে প্রবন্ধ বাড়ানোর মূল্য নেই। উপর্যুক্ত বিষয়সমূহের প্রতি সযত্নে দৃষ্টি রেখে প্রবন্ধ রচনা করতে হবে। সাধারণত একজন প্রাবন্ধিক তার প্রবন্ধটিকে তিনটি ভাগে ভাগ করে নেন। সেগুলো হলঃ ১) সূচনা ২) মূল বক্তব্য ৩) উপসংহার। সূচনায় প্রবন্ধের বিষয়বস্তুর আভাস থাকবে, মূল বক্তব্যে থাকবে বিষয়বস্তু সম্বন্ধে বিস্তৃত আলোচনা এবং উপসংহারে থাকবে যুক্তিপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। প্রবন্ধ লিখতে হলে আরো যেসব প্রয়োজন তা হল পারস্পরিক জগৎ সম্বন্ধে অভিজ্ঞতা, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, এবং প্রবন্ধ লেখার ক্ষমতা।।

ছবি
সেকশনঃ সাধারণ পোস্ট
লিখেছেনঃ তালাল উদ্দিন তারিখঃ 10/04/2024
সর্বমোট 266 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ